WB Elections 2026 | দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তৎপরতা তুঙ্গে, ৩৬ ঘণ্টায় গ্রেফতার ১৫৪৩
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা চরমে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ৩৬ ঘণ্টায় ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ১০৯৫ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে শেষ ৩৬ ঘণ্টায় গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৪৩।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে—পূর্ব বর্ধমানেই সবচেয়ে বেশি ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬, কলকাতা উত্তরে ১০৯, হুগলিতে ৪৯, নদিয়ায় ৩২ এবং হাওড়ায় ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান থেকে এক তৃণমূল কাউন্সিলর নারু ভগতের গ্রেফতারি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলা। কলকাতা পুলিশের অধীনে সর্বাধিক ২২৯টি কিউআরটি (QRT) মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৭টি করে ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (FST) ও স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (SST) রাখা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ২২৮টি কিউআরটি, ৫৩টি FST এবং ৪৮টি SST মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকাগুলিতে ২৭০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতায় এই সংখ্যা ৪৫৮। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ভোটে অশান্তি রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। কাকদ্বীপে সর্বদল বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটের দু’দিন আগে বাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোনওরকম দাপট বা ভীতি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না। ভুয়ো ভোট বা ভোট লুটের মতো ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কলকাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার, বিভিন্ন জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO), পুলিশ আধিকারিক, ব্যয় পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মূলত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের পরিকল্পনা এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারির কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোথাও ক্যামেরা বন্ধ থাকলে ১০ মিনিটের মধ্যে কিউআরটি পাঠাতে হবে। পাশাপাশি, যেসব হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে বুথ করা হয়েছে, সেখানে বাইরের বাসিন্দা বা অস্থায়ীভাবে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে কাজ করতে আসা ব্যক্তিদের তথ্যও নথিভুক্ত রাখতে বলা হয়েছে।
সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ঢেকে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের একাধিক এলাকা। প্রশাসনের দাবি, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
Post a Comment