রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-কে বিশেষ উপহার দিতে চলেছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান তথা মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক Humayun Kabir। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তিনি তুলে দিতে চান মুর্শিদাবাদ জেলার দুই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি— বহরমপুরের বিখ্যাত ছানাবড়া এবং বেলডাঙার জনপ্রিয় মনোহরা।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ের মধ্যে রয়েছেন। তাই এখনই তিনি এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন না। আগামী ১৪ ও ১৫ মে তিনি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেবেন। সেই সময়ই বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
হুমায়ুন কবীর নিজের সমাজমাধ্যমেও শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, নতুন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হোক। পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই তাঁর আশা।
তিনি আরও বলেন, “আমি সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। ভোটের সময় কে কী বলেছে, তা আমি মনে রাখতে চাই না। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো আমার দায়িত্ব।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন দাবি করেন, “ক্ষমতায় আসার সময় মানুষের অনেক আশা ছিল। কিন্তু পরে সেই প্রত্যাশার বড় অংশ পূরণ হয়নি। আমি চাই, আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের বিরুদ্ধে যেন সেই ধরনের অভিযোগ না ওঠে।”
সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, “মুর্শিদাবাদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির শিকার হয়েছেন। এবার জেলার মানুষ উন্নয়নের বাস্তব ফল দেখতে চান।”
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, সরকারি স্তর থেকে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও পরে আর কোনও বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। তবে তাতে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই বলেই জানান বিধায়ক।
একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তাও দেন নতুন সরকারের উদ্দেশে। তাঁর দাবি, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও জেলার প্রতি বৈষম্য করা হলে তিনি ফের আন্দোলনের পথে নামবেন। আগামী দিনে পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করারও আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে হুমায়ুন কবীর বলেন, “যেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে, সেদিন মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে বিখ্যাত দুই মিষ্টি তাঁর হাতে তুলে দেব। এটাই হবে আমার জেলার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছার উপহার।”
Post a Comment