রাজ্যে ধর্মীয় পশুবলি ও কুরবানি প্রথা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি নতুন সরকারের তরফে প্রকাশ্যে পশুবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে আসন্ন বকরি ইদকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
এই প্রসঙ্গে নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, কুরবানি মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার এবং তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যদি কুরবানি নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে রাজ্যের কসাইখানাগুলোর বিষয়েও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজ্যে বসবাস করতে হলে সরকারি নিয়ম মেনে চলতেই হবে। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় আচার, আইনি বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে বকরি ইদের আগে এই ইস্যু রাজ্যের সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অন্য অংশের মতে ধর্মীয় প্রথা নিয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। ফলে গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও।
Post a Comment