ঢাকা: জুলাই গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশ জুড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গণআন্দোলন পরবর্তী সময়ে সারা দেশে মোট প্রায় ১৭ হাজার মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬৩টি মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৩টি হত্যা মামলা।
সোমবার ঢাকার ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে জুলাই গণআন্দোলন সংক্রান্ত মামলাগুলির অগ্রগতি, তদন্তের গতি, আইনি চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এরই পাশাপাশি, বাংলাদেশের একটি আদালত দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি পৃথক মামলায় মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সোমবার ঢাকার আদালত-৪-এর বিশেষ বিচারক মহম্মদ রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে একটি আবাসন প্রকল্পে জমি বরাদ্দে অনিয়ম সংক্রান্ত দুটি দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিককে মোট চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক এবং ভাই রাদওয়ান মুজিবকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই গণআন্দোলন পরবর্তী এই বিপুল সংখ্যক মামলা ও উচ্চপর্যায়ের শাস্তির ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।