ক্যানসার রোগীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের উপর থেকে বেসিক কাস্টম ডিউটি সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। এর ফলে এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধগুলির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্তন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, ব্লাড ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার-সহ একাধিক গুরুতর ও বিরল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আধুনিক এই ওষুধগুলি এতদিন উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। নতুন বাজেট ঘোষণার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
এই ১৭টি ওষুধ মূলত ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও সেল-বেসড ট্রিটমেন্টে ব্যবহার করা হয়। কাস্টম ডিউটি ছাড়ের ফলে বিদেশ থেকে আমদানির খরচ কমবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারদরে। ফলে হাসপাতাল ও ফার্মা সংস্থাগুলি তুলনামূলক কম দামে রোগীদের কাছে এই ওষুধ পৌঁছে দিতে পারবে।
কাস্টম ডিউটি ছাড় মানে কী?
বিদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধের উপর সরকার যে কর নেয়, তাকেই কাস্টম ডিউটি বলা হয়। ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে এই কর তুলে নেওয়া হলে ওষুধের মোট দাম অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ কিছুটা হলেও কমবে।
কোন কোন ক্যানসার ওষুধের দাম কমবে?
কাস্টম ডিউটি ছাড় পাওয়া ১৭টি ওষুধ হল—
Ribociclib
Abemaciclib
Talycabtagene autoleucel
Tremelimumab
Venetoclax
Ceritinib
Brigatinib
Darolutamide
Toripalimab
Serplulimab
Tislelizumab
Inotuzumab ozogamicin
Ponatinib
Ibrutinib
Dabrafenib
Trametinib
Ipilimumab
রোগীদের কী উপকার হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওষুধগুলি অনেক ক্ষেত্রে অ্যাডভান্স স্টেজ ক্যানসারে রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কাস্টম ডিউটি ছাড়ের ফলে চিকিৎসার সামগ্রিক খরচ কিছুটা হলেও কমবে, যা রোগী ও তাঁদের পরিবারের উপর আর্থিক চাপ হ্রাস করবে।
স্বাস্থ্য মহলের মতে, বাজেট ২০২৬–২৭-এর এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কেন্দ্র সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সাশ্রয়ী ও রোগীবান্ধব করতে চায়। ক্যানসার চিকিৎসা এখনও ব্যয়বহুল হলেও, এই পদক্ষেপকে খরচ কমানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।