রাতে আপনি ঠিক কত ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন—৮ ঘণ্টা, ৬ ঘণ্টা, নাকি তারও কম? আধুনিক জীবনে অনেকেই মনে করেন কম ঘুমিয়ে বেশি কাজ করাই সাফল্যের চিহ্ন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, এই অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার ফলে আজ পর্যাপ্ত ঘুম অনেকের কাছেই দুর্লভ। অথচ চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়—এটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম ভিত্তি।
গবেষণায় কী জানা গেল?
যুক্তরাষ্ট্রের Oregon Health and Science University (OHSU)-এর গবেষকরা সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের গড় আয়ু কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল SLEEP Advances-এ।
গবেষণার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গড় আয়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে CDC (Centers for Disease Control and Prevention)-এর সংগৃহীত ডেটার সঙ্গে সেগুলির তুলনা করা হয়।
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অ্যান্ড্রু ম্যাকহিল জানান, সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম হওয়া দরকার।
কম ঘুমে বাড়ছে রোগের ঝুঁকি
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুম হলে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার প্রভাব পড়ে ওজন, রক্তচাপ এবং হৃদ্যন্ত্রের উপর।
দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে আয়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
American Academy of Sleep Medicine এবং Sleep Research Society—এই দুই সংস্থাই জানিয়েছে, নিয়মিত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।
পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা—
ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকে
উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে
উপসংহার
ঘুম কমিয়ে কাজ বাড়ানো বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। বরং নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমই সুস্থ শরীর ও দীর্ঘ জীবনের আসল চাবিকাঠি। তাই আজ থেকেই নিজের ঘুমের সময়ের দিকে নজর দিন—কারণ আপনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে রাতের সেই কয়েক ঘণ্টার উপর।