🐱 পাড়াজুড়ে রহস্য! একের পর এক উধাও আন্ডারওয়্যার—শেষমেশ ধরা পড়ল দুই ‘বিড়াল চোর’
নিউজিল্যান্ড থেকে অদ্ভুত কিন্তু হাস্যকর এক ঘটনা
নিউজিল্যান্ডের শান্ত ও নিরিবিলি শহরগুলোতে সম্প্রতি এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা শুনে প্রথমে অবাক হলেও পরে হাসি চেপে রাখা মুশকিল। গভীর রাতে পাড়া থেকে একের পর এক উধাও হয়ে যাচ্ছে আন্ডারওয়্যার, মোজা ও জামাকাপড়। প্রথমে মানুষজন ভেবেছিলেন কোনও অদ্ভুত চোর সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, রহস্য ততই মজার দিকে মোড় নেয়।
শেষ পর্যন্ত জানা যায়—এই ‘চোর’ কোনও মানুষ নয়, বরং দুটি দুষ্টু বিড়াল!
🏠 হ্যামিল্টনের ‘চোর’ ব্রিজিট
নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টন শহরের বাসিন্দা সারাহ ন্যাথানের বাড়িতে শুরু হয় রহস্যের সূত্রপাত। তাঁর ছয় বছরের টনকিনিজ জাতের বিড়াল ব্রিজিট গত দুই মাসে বাড়িতে এনে ফেলেছে—
অন্তত ১১ জোড়া আন্ডারওয়্যার
৫০টিরও বেশি মোজা
বিভিন্ন অচেনা পোশাক
প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কিন্তু ধোয়া কাপড়ের ঝুড়িতে একের পর এক অপরিচিত আন্ডারওয়্যার পাওয়ায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়।
একদিন সারাহ নিজ চোখে দেখেন, ব্রিজিট মুখে করে মোজা নিয়ে ঘরে ঢুকছে—একেবারে ছোট বাচ্চার মতো গর্বের সঙ্গে!
📱 সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল
ঘটনাটি সারাহ ফেসবুকে পোস্ট করতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই পোস্টটি প্রায় ৫০০ বার শেয়ার হয়।
পরিবারের তরফে এলাকায় লিফলেট বিলি করা হয়, যাতে প্রকৃত মালিকরা নিজেদের জিনিস শনাক্ত করে নিতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয়, প্রতিবেশীরা রেগে যাওয়ার বদলে বিষয়টি বেশ উপভোগই করেন।
সারাহ জানান,
> “নিউজিল্যান্ডে সাধারণত বিড়াল বাইরে ঘোরে। ব্রিজিট পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকার করে না—ও শুধু জামাকাপড়ই পছন্দ করে!”
🌊 অকল্যান্ডের ‘লিওনার্দো দা পিঞ্চি’
অন্যদিকে অকল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী মাইরাঙ্গি বে এলাকায় আরেক বিড়াল চুরির জগতে রীতিমতো কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে। ১৫ মাস বয়সি এই বিড়ালের নাম লিও, তবে প্রতিবেশীরা আদর করে ডাকছেন—
🐾 ‘লিওনার্দো দা পিঞ্চি’
লিও যে সব জিনিস চুরি করে এনেছে, তার তালিকা শুনলে চোখ কপালে ওঠে—
সিল্কের বক্সার শর্টস
ভারী কাজের মোজা
শিশু ও বড়দের জামাকাপড়
৩০০ নিউজিল্যান্ড ডলার দামের কাশ্মীরি সোয়েটার
একদিন তো এনে ফেলে ৫ ফুট লম্বা খেলনা সাপ!
একদিন সকালে দোকান খোলার আগেই সে একটি জার্সি চুরি করে আনে। এমনকি একদিনে ৯টি জিনিস চুরি করার রেকর্ডও রয়েছে তার!
📸 “এই আন্ডারওয়্যারগুলো কি আপনার?”
লিওর মালিক হেলেন নর্থ প্রতিবেশীদের জিনিস ফেরত দিতে তৈরি করেছেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ফেসবুক পেজ। সেখানে নিয়মিত ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন—
> “এই আন্ডারওয়্যারগুলো কি আপনার?”
এই বার্তাটি এখন গোটা এলাকায় রীতিমতো জনপ্রিয়।
মজার বিষয়, অনেক প্রতিবেশী উল্টো অভিযোগ করছেন—
> “লিও আমার জিনিস চুরি করল না কেন?”
তবে একজন প্রতিবেশী, যিনি বিড়ালে অ্যালার্জিক, নিরাপত্তার জন্য এখন ঘরের ভেতরেই কাপড় শুকোন।
😹 আটকানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ
হেলেন লিওকে ঘরের ভেতর আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ইচ্ছা করে বাড়িতে কাপড় ফেলে রাখেন—তবুও কোনও লাভ হয়নি।
হেলেন হাসতে হাসতে বলেন,
> “ও শুধু সেই জিনিসই চায়, যেগুলো ওর নেওয়া উচিত নয়!”
আরেকটি বিড়াল আনার পরামর্শও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা,
> “লিও আরেকটাকেও চোর বানিয়ে ফেলবে!”
🐾 দুষ্টুমি নাকি অভ্যাস?
লিওর এই ‘অপরাধ জীবন’ শুরু হয়েছিল প্রথমবার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পর। পরিবার আশা করছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস কমে যাবে।
হেলেন মজা করে বলেন,
> “১৫ বছর ধরে এভাবে আন্ডারওয়্যার ফেরত দেওয়ার প্রশাসনিক কাজ করতে চাই না!”
😄 শেষ কথা
এই মুহূর্তে হ্যামিল্টন ও মাইরাঙ্গি বের রাস্তায় দুই ‘ক্যাট বার্গলার’ এখনো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্ষোভ নয়, বরং তাদের কাণ্ড ঘিরে পুরো পাড়াজুড়ে চলছে হাসির রোল।
নিরীহ কিন্তু দুর্ধর্ষ—এই দুই বিড়াল প্রমাণ করে দিল, চোর সব সময় মানুষই হবে, এমন কোনও কথা নেই!