ভরতপুরের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কেবির সেখকে সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়ায় বাবার পরিচয় ও পারিবারিক নথি সহ ব্লক অফিসে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনে শুনানিতে আসার সময়ই তৈরি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য।
চোখে পড়ে, মাথার ওপর বড় কাপড়ে বাঁধা একটি পুঁটলি নিয়ে ব্লক অফিস চত্বরে ঢুকছেন কেবির সেখ। পুঁটির ভেতরে ছিল তাঁর বাবা, দাদু ও পরদাদুর আমলের জমির দলিল, পুরনো রেকর্ডের পর্চা এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। শুধু নথিতেই যেন ভরসা পাননি তিনি। আবেগের তাড়নায় এবং পরিচয় হারানোর ভয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বাবার কবরের একমুঠো মাটি।
কেবির সেখের কথায়, “এটাই আমার বাবার শেষ চিহ্ন। যদি কাগজে বিশ্বাস না হয়, তবে এই মাটিই আমার প্রমাণ।” এই দৃশ্য দেখে ব্লক অফিসে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মীরাও মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। অনেকের চোখে জল চলে আসে।
ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, কাগজের জটিলতায় একজন সাধারণ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
স্থানীয়দের দাবি, কেবির সেখ কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ নন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি নিজের ভিটেমাটি ও পরিচয় রক্ষার তাগিদেই এই আবেগঘন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভরতপুরের ডাঙ্গাপাড়ার এই ছবি এখন আর শুধুই একটি ভাইরাল ভিডিও নয়—এটি পরিচয়, অস্তিত্ব ও মানবিকতার লড়াইয়ের এক জ্বলন্ত দলিল।