দামোদর নদীর গর্ভ থেকে ফের উদ্ধার হল বিপজ্জনক বিস্ফোরক সামগ্রী। এ বার একসঙ্গে তিনটি বিশালাকার মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক ভাবে অনুমান, উদ্ধার হওয়া শেলগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখী থানার অন্তর্গত ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি ফেরিঘাট এলাকায়। স্থানীয় একটি পে-লোডার দিয়ে নদীর পাড় থেকে বালি তোলার সময় আচমকাই মাটির নিচ থেকে উঠে আসে ধাতব ওই বিশালাকার শেলগুলি। বিষয়টি নজরে আসতেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। সম্ভাব্য বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে শেলগুলিকে নদীর চরে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পাশাপাশি গোটা এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে দ্রুত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, শক্ত লোহার খোলের ভিতরে বিস্ফোরক ভর্তি অবস্থায়ই শেলগুলি বহু বছর ধরে নদীর তলায় পড়ে ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক জানা বলেন, “বালি তোলার সময় হঠাৎ এই ধাতব জিনিসগুলো উঠে আসে। আমরা আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় অনেক মানুষ ভিড় করেন।”
উল্লেখ্য, এর আগেও দ্বারকেশ্বর ও দামোদর নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে বালি উত্তোলনের সময় মর্টার শেল উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলি এক বা দু’টির বেশি ছিল না। এই প্রথম বাঁকুড়া জেলায় একই সঙ্গে তিনটি মর্টার শেল উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বর্তমানে শেলগুলির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। সেনাবাহিনীর বিশেষ দল এসে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করার পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।