কোচবিহারে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক সরকারি নার্সকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বুধবার রাতে শহরের বক্সিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নার্সের দেহ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর স্বামী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্সের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। তিনি কোচবিহার এমজেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি এলাকার একটি বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন তিনি। তাঁর স্বামী রঞ্জিত রায় পেশায় গাড়িচালক এবং শিলিগুড়িতে কাজ করতেন। মাঝে মাঝেই স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কোচবিহারে আসতেন তিনি। দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যে কালিংম্পংয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। এমনকি বিষয়টি একবার থানাতেও গড়ায়, যদিও সেই সময় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন ছন্দা রায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িতে আসেন তাঁর স্বামী। রাত বাড়তেই বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এরপরই বাড়ির ভিতর আগুন জ্বলতে দেখেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় এক ব্যক্তিকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালাতে দেখা যায়। অন্যদিকে বাড়ির গেটের সামনে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় নার্স ছন্দা রায়কে। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার কিছু দূরেই গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায় রঞ্জিত রায়কে। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ছন্দা। তিনি স্বামীকে একটি গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন এবং সেই গাড়ির ইএমআইসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রতিবেশীদের দাবি, যদি এটি খুনের ঘটনা হয়ে থাকে, তবে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।